Sunday, August 30, 2015

ইন্সটাগ্রামে দেওয়া যাবে পোর্ট্রেইট ও ল্যান্ডস্কেপ

 ছবি এবং ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ্লিকেশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ইন্সটাগ্রাম। প্রায় ৩০ কোটি ব্যবহারকারী প্রতিনিয়ত আপলোড করে যাচ্ছে নিজেদের ভালোলাগা মুহূর্তের ছবি কিংবা ভিডিও। তবে এই ছবি কিংবা ভিডিওর আকার এতদিন নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল ইন্সটাগ্রাম কর্তৃপক্ষ।
এতদিন নিয়ম ছিল, আপলোডের জন্য সব ছবি কিংবা ভিডিও হতে হবে বর্গাকার। এবার পুরোনো এই নিয়ম শিথিল করতে যাচ্ছে ইন্সটাগ্রাম। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
ইন্সটাগ্রামের নতুন আপডেটে যুক্ত হয়েছে নতুন ফিচার। এর ফলে পোর্ট্রেইট কিংবা ল্যান্ডস্কেপ আকারের ছবি কিংবা ভিডিও আপলোড করতে পারবেন সবাই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তাদের বিজ্ঞাপনচিত্র ইন্সটাগ্রামে আপলোডে আগ্রহী করতেই হঠাৎ এই পরিবর্তন আনল ইন্সটাগ্রাম—এমনটাই ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
এই আপডেটের নেপথ্য কাহিনী নিজেদের ব্লগ সাইটে জানিয়েছে ইন্সটাগ্রাম কর্তৃপক্ষ। ব্যবহারকারীদের আরও স্বাচ্ছন্দ্যে ছবি-ভিডিও আপলোডের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যই প্রাধান্য পেয়েছে এখানে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘এটি জানা গেছে ইন্সটাগ্রামে আপলোড হওয়া প্রতি পাঁচটি ছবির ভেতরে একটি বর্গাকৃতির নয় এবং আমরা জানি, ইন্সটাগ্রামে আপলোডের জন্য সেসব আকার সুবিধাজনক নয়। হয়তো বন্ধুকে কেটে ফেলতে হয় ছবি থেকে কিংবা একেবারে বাতিল করে দিতে হয় একটি ভিডিও।’
এসব সমস্যা দূর করতেই সব রকমের আকার এখন থেকে গ্রহণ করবে তারা। ব্লগপোস্টে আরো জানানো হয়, ‘ভিডিওগ্রাফির জন্য এই আপডেট এক দারুণ খবর। ওয়াইডস্ক্রিন ভিডিও আরো বেশি সিনেম্যাটিক লুক দেবে ইন্সটাগ্রামে আপলোড হওয়া ভিডিওগুলোকে।’
২০১০ সালে ইন্সটাগ্রাম প্রতিষ্ঠার পর থেকে শুধু বর্গাকৃতির ছবি আপলোড করতে পারতেন ব্যবহারকারীরা। পাঁচ বছর ধরে চলা এই প্রথা এবার ভেঙে ফেলল তারা। অন্যদিকে, ২০১৩ সালে প্রথম ভিডিও আপলোড করার সুবিধা চালু করেছিল ইন্সটাগ্রাম। ১৫ সেকেন্ডের বেশি দৈর্ঘ্যের ভিডিও অবশ্য সমর্থন করে না ইন্সটাগ্রাম। তবে এ সুবিধা কাজে লাগিয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠান তাদের নিজেদের সুবিধামতো। এবার সেদিক থেকে আরো বেশি সাড়া পেতে চায় ইন্সটাগ্রাম।

নতুন পৃথিবী আবিষ্কারের ঘোষণা নাসার!


পৃথিবীর মত আরেকটি পৃথিবী, ভাবতেই শরীর-মন কেমন যেন করে ওঠে। কল্পবিজ্ঞান আর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মহাকাশে এমন পৃথিবীর দেখা মিললেও বাস্তবে তা অধরাই থেকে গেছে এই গ্রহের মানুষের কাছে। এবার মনে হয় সেই অধরা স্বপ্ন সত্যি হতে চলছে পৃথিবীবাসীর।

কারণ মহাকাশে আর একটা পৃথিবী আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করেছে নাসা। আকার ও চারিত্রিক দিক থেকে অনেকটা পৃথিবীর মতোই এই নতুন গ্রহটি। এর নাম দেয়া হয়েছে কেপলার ৪৫২বি।

পৃথিবী থেকে ১ হাজার ৪শ’ আলোকবর্ষ দূরে মহাকাশের গভীরে রয়েছে আর একটা পৃথিবী। ভিনগ্রহে প্রাণের সন্ধান চালাতে গিয়ে এই গ্রহ ধরা পড়েছে নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপে। নতুন এই গ্রহকে পৃথিবী সদৃশ বলার বেশ কয়েকটা কারণ রয়েছে। পৃথিবী যেমন সূর্যকে কেন্দ্র করে একটা নির্দিষ্ট অক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে চলেছে, নতুন এই গ্রহটিও নির্দিষ্ট একটি অক্ষ বরাবর একটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে। সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন, আর এই গ্রহটির নক্ষটিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৮৫ দিন।

কেপলার ৪৫২বি গ্রহটির প্রকৃতি সম্পর্কে বিশদে এখনও কিছু জানা না গেলেও, মনে করা হচ্ছে পৃথিবীর মতোই এটিও পাথুড়ে। তবে, পৃথিবীতে যে পরিমাণ পাথর রয়েছে, তার থেকে পাঁচগুণ রয়েছে কেপলার ৪৫২বি-তে। এই গ্রহটি আকারেও পৃথিবীর থেকে ৬০% বড় বলে জানিয়েছে নাসা।

ওয়াশিংটনে নাসার অ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ঘোষণা করেছেন, ‘কেপলার একটি গ্রহ ও একটি নক্ষত্র আবিষ্কার করেছে যার সঙ্গে আমাদের পৃথিবী ও সূর্যের প্রচুর মিল রয়েছে। এই দুর্দান্ত আবিষ্কারের ফলে আমরা দ্বিতীয় পৃথিবী সন্ধানের পথে আরও একধাপ এগোলাম।’

ম্যাক কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রমণ

কিছুদিন আগে প্রযুক্তি বিশ্বে আলোড়ন ওঠে যখন বিশ্বব্যাপী প্রায় সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি ম্যাক কম্পিউটার ট্রোজান হর্স ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। সম্প্রতি জানা গেছে, ফ্ল্যাশব্যাক নামের সেই ভাইরাসের প্রকোপ থামতে না থামতেই আরও বিপজ্জনক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে ম্যাক কম্পিউটারসমূহে।
সূত্র জানিয়েছে, সিকিউরিটি কোম্পানি ক্যাসপারস্কি ল্যাবের মতে, এই ট্রোজানের নাম স্যাবপাব , যা মূলত ব্যাকডোর হিসেবে কাজ করে। ক্যাসপারস্কি ল্যাবের প্রধান সিকিউরিটি এক্সপার্ট অ্যালেক্স গোস্তেভ জানিয়েছেন, ‘এর আগে ছড়িয়ে পড়া ফ্ল্যাশব্যাক আর এই স্যাবপাব সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ট্রোজান। ফ্ল্যাশব্যাক অনেকটা ক্লিক স্ক্যাম তৈরি করতো। একে ক্লিকজ্যাকিংও বলা হয়। অন্যদিকে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া স্যাবপাব ট্রোজান কম্পিউটারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা আক্রমণকারীর হাতে তুলে দেয় যাকে ব্যাকডোর পদ্ধতি বলা হয়ে থাকে।’
 ম্যাশএবল জানিয়েছে, নতুন এই ম্যালওয়ার ফ্ল্যাশব্যাকের চেয়েও দ্রুত ও বেশি সংখ্যক কম্পিউটারে ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। এটি সাধারণত ইন্টারনেটের জাভার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অজ্ঞাতেই কম্পিউটারে ডাউনলোড হয়ে যায়। তবে ইমেইলে আসা অপরিচিত ও সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকলেই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
ম্যাশএবল আরও জানিয়েছে, ম্যাক কম্পিউটারকে একসময় ভাইরাস থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে ধারণা করা হলেও মাত্র গত তিনমাসেই ৭০টিরও বেশি বিভিন্ন ম্যালিশিয়াস প্রোগ্রাম ধরা পড়েছে যেগুলো ম্যাক কম্পিউটারকে আক্রান্ত করতে পারে। আর নতুন এই ট্রোজান আগেরগুলোর চেয়ে বেশী বিপজ্জনক বলেই মত দিয়েছে ক্যাসপারস্কি ল্যাব।

Saturday, August 29, 2015

নতুন উইন্ডোজ ১০ এর বুট-আপ কি স্লো? ফাস্ট করবেন কিভাবে? সমাধান!


যারা নতুন উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করছেন তারা হয়তো একটি বিষয় খেয়াল করবেন যে আপনার পিসি আগের থেকে বর্তমানে চালু হতে অনেক সময় নিচ্ছে। আর এই সমস্যাটি সুধু আপনারই না, যারা নতুন উইন্ডোজ আপডেট করেছেন তার প্রায় ৫০% পিসির একই সমস্যা।
তো চলুন এখন জেনে নেই এই সমস্যার সমাধান করবেন কিভাবে?-
আপনি নিশ্চয় কোন ভালো মানের ক্র্যাক বা অরিজিনাল এন্টিভাইরাস ব্যবহার করেন? যদি করে থাকেন তবে সেটি আগে আপডেট দিন। এবার পুরো পিসিটি একবার ভালো করে স্ক্যান কর নিন।
দ্বিতীয় স্টেপে, যে প্রোগ্রাম গুলো আপনার পিসি বা উইন্ডোজ চালু হবার সাথে সাথে চালু হয় সেগুলো বন্ধ করে দিন। এটা করবেন উক্ত প্রোগ্রামের অপশনে যেয়ে বা কি বোর্ডের Ctrl, Shift and Esc বাটান একই সাথে প্রেস করুন এবং টাস্ক ম্যনাজার থেকে স্টার্টআপ অপশনে যেয়ে সেগুলো ডিজাবেল করে দিন।

তৃতীয় স্টেপে, উইন্ডোজের ডিফল্ট ফাস্ট-স্টার্টআপ অপশনটি চালু করুন। কিভাবে? চলুন দেখি
প্রথমে কন্ট্রোল প্যানাল থেকে পাওয়ার অপশনে যান। এবার সেখান থেকে শাটডাউন অপশন হয়ে “টার্ন অন ফাস্ট স্টার্টআপ” সেটিংসটি চালু করে দিন।
3
ব্যাস এবার আপনার পিসিটি একবার রিস্টার্ট দিন। এবং চতুর্থ ধাপ অনুসরণ করুন।
4
একই সাথে “Windows Key + R” বাতন প্রেস করে সেখানে services.msc লিখে সার্চ করুন। এবার এখানে একটি বড় লিস্ট আসবে এবং সেখান থেকে আপনাকে খুঁজে খুঁজে বের করতে হবে যে কোন কোন আপ্লিকেশন স্টার্টআপে অন হচ্ছে। সেগুলো ডিজাবেল করে দিন।
5
কিছু কথাঃ সর্বশেষ স্টেপটা কিন্ত একটু কঠিন। কোন কিছু না জেনে শুধুমাত্র খেয়াল খুশি মতো কিছু পরিবর্তন করবেন না।
উপরে দেখানো পদক্ষেপ গুলো ঠিক মতো করতে পাড়লে আশা করা যাচ্ছে তারপর থেকে আপনি পিসির স্টার্টআপ অনেক গুন ফাস্ট হবে।
কাজটি করতে কোন সমস্যা হলে আমাদের কমেন্ট বক্সে জানেতে পারেন।

আসছে ফেসবুকের ডিজিটাল সহকারী ‘এম’


‘জেমস বন্ড’ সিরিজের মিস মানিপেনির কথা মনে আছে? এই সিরিজের ছবিগুলোতে বন্ড এবং মানিপেনির মধ্যে কিছুটা রোমান্টিক সম্পর্কের অবতারণা করা হলেও মানিপেনি মূলত জেমস বন্ডের বস এম-এর ব্যক্তিগত সহকারী। সেই ‘মানিপেনি’ ছদ্মনামে ডিজিটাল সহকারী তৈরি করছে ফেসবুক—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে মাস খানেক আগে। তা যে শুধুই গুজব ছিল না, তার প্রমাণ মেলে ফেসবুকের হেড অব মেসেজিং প্রোডাক্ট ডেভিড মার্কাসের ফেসবুক পাতায়। বুধবারে তিনি লেখেন, ‘আজ আমরা “এম” নামের নতুন একটি সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করছি। ফেসবুক মেসেঞ্জারে ব্যক্তিগত সহকারীর ভূমিকায় এম মূলত আপনার হয়ে নানা কাজ করবে এবং তথ্য খুঁজে দেবে।’
অন্যান্য ডিজিটাল সহকারীর সঙ্গে এমের পার্থক্য, এটি শুধু তথ্য খুঁজবেই না, কাজও করে দেবে। ডেভিড মার্কাসের ভাষায়, ‘এটা পণ্য কিনবে, প্রিয়জনকে উপহার পাঠাবে, রেস্তোরাঁ খুঁজে দেবে কিংবা ভ্রমণের বন্দোবস্ত করবে।’
স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল সহকারী তৈরিতে অ্যাপল, মাইক্রোসফট এবং গুগল বেশ আগে থেকেই কাজ করছে। সে প্রতিযোগিতায় এবার যোগ দিল ফেসবুক। তবে ফেসবুকের মূল অ্যাপ কিংবা ওয়েবসাইটে নয়, বরং এম থাকছে তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ মেসেঞ্জারের একটি সেবা হিসেবে। সিরি, করটানা কিংবা গুগল নাউয়ের নেপথ্যে কাজ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ফেসবুকের এমের বেলাতেও তাই, তবে সবকিছুর তত্ত্বাবধানে একদল মানুষ কাজ করবে। যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় উত্তর মিলবে না, রক্ত-মাংসের বাস্তব মানুষ সেই কাজগুলো করে দেবে। এ জন্য ফেসবুকের দরকার পড়বে বিশাল এক কর্মীবাহিনীর—হয়তো হাজার হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। তবে ফেসবুকের এম মানুষের কাজের ধরন থেকে শিখে পরবর্তী সময়ে নিজেই সব কাজ করতে পারবে বলেই প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস। এমের পরীক্ষামূলক সংস্করণ আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রানসিসকোতে সীমাবদ্ধ আছে। ধীরে ধীরে আরও ব্যবহারকারী এম ব্যবহারের সুযোগ পাবে। মানুষ তখন নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য আরও বেশি সময় পাবে, সে কাজে আরও মনোযোগী হতে পারবে—এমনটাই মনে করে ফেসবুক।

যারা বদলে দিয়েছে প্রযুক্তির দুনিয়া, একই সাথে পুরো পৃথিবী....

কিছুকে বদলে দেয়া সহজ নয়। আমরা প্রায়ই সমাজকে বদলে দেয়ার কথা বলি, কিন্তু সমাজের কথা বাদ দিন, নিজেকেই বদলাতে পারি ক’জন? আসুন, আজ আমরা পরিচিত হই এমন ১০টি ওয়েব সাইটের সঙ্গে যারা কেবল ইন্টারনেটকেই নয়, বদলে দিয়েছে পৃথিবীকেও।

উইকিপেডিয়া বদলে দিয়েছে তথ্য অনুসন্ধানের ধরনকে।

উইকিপেডিয়ার আগেও অনলাইন বিশ্বকোষ ছিল, তবে সেগুলোতে হয় তেমন কোনো তথ্য থাকত না, অথবা তথ্য থাকলেও পয়সার বিনিময়ে সে তথ্য পেতে হত। উইকিপেডিয়া বদলে দিল এটি, এখন আমরা যে কেবল বিনা পয়সাতেই সব বিষয়ে জানতে পারি তাই নয়, নিজেরাও হতে পারি তথ্যের জোগানদাতা আর নির্মাতা। সব মানুষের অংশীদারিত্বে তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার মাধ্যমে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা আর নিভুর্লতাকেও অনেকগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে উইকিপেডিয়া।

আমাজন.কম বদলে দিয়েছে পণ্য ক্রয়ের ধরন।


আমাজনের আগেও অনলাইনে কেনাকাটা ছিল, তবে আমাজনের মত ছিল না কেউই। কেবল বই আর সম্পর্কিত আইটেম বিক্রি দিয়ে শুরু করে আজ আমাজন অনলাইনে বিক্রি করছে কোটি কোটি পণ্য, হয় নিজে অথবা অংশীদারি বিভিন্ন সাইটের মাধ্যমে। এছাড়া বিক্রিত পণ্য শিপমেন্ট তথা ক্রেতার হাতে পৌছে দেয়ার যে স্ট্যান্ডার্ড আমাজন দাঁড় করিয়েছে আজ কমবেশি তাকেই অনুসরণ করছে অন্য অনলাইন রিটেইলাররা।

হটমেইল বদলে দিয়েছে ইমেইল করার ধরন।

হটমেইলের আবির্ভাবের আগে ইমেইল ব্যাপারটা ছিল একটামাত্র কম্পিউটারের সীমানাতেই বন্দী। মেইল পাঠানো বা রিসিভ করা ঐ কম্পিউটার থেকেই করতে হত। হটমেইল ওয়েব মেইলের ধারণা চালু করে এই বন্দিত্ব থেকে মুক্তি দিল আমাদের। ইন্টারনেট কানেকশন আছে এমন যে কোনো কম্পিউটার থেকেই মেইল গ্রহণ বা প্রেরণ করা সম্ভব হল। বর্তমানে হটমেইলের পথ ধরেই কাজ করে চলেছে আরো শত শত ওয়েব মেইল সেবাদাতা।

ফেসবুক বদলে দিয়েছে বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুর সম্পর্ক আর বন্ধন।

ফেসবুকই সর্বপ্রথম সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইট নয়, কিন্তু নিঃসন্দেহে ফেসবুকে এমন কিছু আছে যা অন্য কোনো সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটে নেই। এ কারণে ফেসবুকের সদস্য সংখ্যা আজ ৪০ কোটি! কেবল বন্ধুই নয়, প্রিয় ব্যান্ড, প্রিয় নায়ক নায়িকা, প্রিয় সংগঠন বা প্রিয় দল ইত্যাদির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় ফেসবুকের দিকে হাত বাড়িয়ে রেখেছে সবাই। বর্তমানে পড়ালেখা, বিনোদন, ব্যবসা বা চাকুরি সব কাজেই কোনো না কোনোভাবে ফেসবুককে ব্যবহার করছে কোটি কোটি মানুষ।

প্রজেক্ট গুটেনবার্গ বদলে দিয়েছে পড়ার ধরনকে।


প্রজেক্ট গুটেনবার্গ হচ্ছে এক বিশাল অনলাইন গ্রন্থাগার, যেখান থেকে আমরা পড়তে পারি মনের মত সব বই, বিনে পয়সায়। প্রজেক্ট গুটেনবার্গই প্রথম ই-বুক তৈরি করেছে এবং বিনে পয়সায় পৌঁছে দিয়েছে সবার কাছে। আজ কোটি কোটি মানুষ কপিরাইটের আওতামুক্ত প্রায় সব বই-ই পড়তে পারছে প্রজেক্ট গুটেনবার্গে, একাধিক ভাষায়। বলা যায়, প্রজেক্ট গুটেনবার্গের আবির্ভাব না ঘটলে ই-বুক আজকের জায়গায় পৌঁছাতে পারত না।

টুইটার বদলে দিয়েছে যোগাযোগের ধরনকে

সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেটের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে টুইটার। মাত্র ১৪০ অক্ষরের বার্তার মাধ্যমে মানুষ একে অন্যের সঙ্গে এমনভাবে যোগাযোগ করে চলেছে, আজ থেকে বছর দশেক আগে হলেও যেটাকে অবিশ্বাস্য লাগত। কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়েই নয়, ব্যবসা বাণিজ্য বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যোগাযোগকেও অন্য একটা স্তরে নিয়ে গেছে টুইটার। টুইটারে কোনো কোম্পানির কাস্টমার সার্ভিসের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে, দেখা যাবে খুব দ্রুত ঐ কোম্পানির পক্ষ থেকে মেসেজ এসে গেছে এবং সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপও নেয়া হযেছে। কোটি কোটি মানুষের মন জয় করে এভাবেই এগিয়ে চলেছে টুইটার।

প্যানডোরা বদলে দিয়েছে মিউজিক অনুসন্ধান


প্যানডোরার আবির্ভাবের আগে অনলাইনে মিউজিক শুনতে হলে কোনো স্ট্রিমিং রেডিও স্টেশনে গিয়ে আগে থেকে প্রোগ্রাম করা মিউজিক শুনতে হত। এতে বেশির ভাগ সময়ই পছন্দের মিউজিক শোনা সম্ভব হত না। প্যানডোরা পাল্টে দিল এটাকে। এখন প্যানডোরায় নিজের রেডিও স্টেশন নিজেই প্রোগ্রাম করা যায়, গানের বা গায়কের নাম দিয়ে গানটা বাজাতে বললেই হল। খুব অল্প পরিমাণ ইউজার ইনপুটকে কাজে লাগিয়ে প্যানডোরা খুবই সন্তোষজনক প্লেলিস্ট তৈরি করতে পারে, যাতে প্রতিফলিত হয় শ্রোতার পছন্দ-অপছন্দ।

ইউটিউব বদলে দিয়েছে বিনোদনকে

ইউটিউব জন্ম নেয়ার আগে অনলাইনে মনের মত ভিডিও দেখার তেমন কোনো উপায় ছিল না। ইউটিউব এসেই নিজের ইচ্ছেমত ভিডিও পোস্ট করা এবং দেখার স্বাধীনতা দিল সবাইকে, ওটা কপিরাইট করা এবং দশ মিনিটের বেশি লম্বা না হলেই হল। ওয়েব ব্যবহারকারীরা বর্তমানে এক জায়গা থেকেই নিজের খেয়ালখুশিমত অনলাইনে ভিডিও দেখতে পারে। আরো অনেক কোম্পনি ইউটিউবের পদাঙ্ক অনুসরণ করায় এখন অনলাইনে ভিডিও দেখা হয়ে গেছে রীতিমত ডালভাত।

গুগল বদলে দিয়েছে সবকিছুই!

কথাটা শুনে একটু বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে, কিন্তু এটা সত্যি। ইন্টারনেটের এমন কোনো এলাকা বাদ নেই যেখানে গুগলের হাতের ছোঁয়া পড়েনি। আপনি অনলাইনে যাই করুন না কেন, গুগলের কোনো না কোনো সার্ভিসের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। আমরা যে যে পেশা বা অবস্থাতেই থাকি না কেন, অনলাইন দুনিয়ায় গুগলের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে বাঁচা খুবই কঠিন। ব্লগারের ব্লগ হোক, পিকাসা-ফটো অ্যালবাম হোক, হোক গুগুল সার্চ, অথবা জিমেইল ব্যবহার অথবা ইউটিউবে ভিডিও দেখা, গুগল আছে সব জায়গাতেই।

এখানে একটা মজার ব্যপার লক্ষ করেছেন হয়তবা। এদের বেশিরভাগই নতুন কোন ‍কিছু করেনি। এমন নয় যে তারা অসাধারণ কোন কিছু আবিস্কার করে বিখ্যাত হয়েছে। তারা যেটা করেছে, প্রচলিত পন্থাগুলোতেই হেটেছে, তবে নিজেদের মত করে। এটাই হতে পারে উন্নতির মূলমন্ত্র। অনেকে অনেক কিছু করে ফেলেছে। তাই বলে কি আপনি হতাশ হয়ে পড়বেন? সবাই তো সব কিছু করে ফেলেছে, আমি কি করব!

এই কথা্ বলার দিন শেষ। আমরা এখন অনেক বড় এক বাজারের সামনে দাড়িয়ে আছি। আমরা যাই করি না কেন তার সাম্ভাব্য ক্রেতা বা অডিয়েন্স হাজারে নয়, লাখে নয়, শত কোটিতে। তাই যে কোনকিছু মানসম্পন্যভাবে করতে পারলে আমরা একদল অডিয়েন্স. একদল আগ্রহী মানুষ ‍পেয়ে যাই, যারা দেখতে চায়, আমরা কি করতে পারি, কতটুকু করতে পারি। প্রচলিত যে কোন কিছু আমরা আমাদের মত করে শুরু করতে পারি, একদম আমাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। নিশ্চিৎ থাকতে পারেন, একদল আগ্রহী মানুষ পেয়ে যাবেন আপনি, যারা আপনার জন্য অপেক্ষা করবে, আপনি কি করলেন, কিভাবে করলেন তা দেখবার জন্য, মানসম্পন্যভাবে করতে পারলে তারা আপনার কষ্টকে মূল্যায়িত করবে আপনার সেবা গ্রহন করে। বসে থাকা কেন? সুযোগ কি আমাদের সামনে হাত বাড়িয়ে অপেক্ষা করছে না?

adfly

Powered by Blogger.

 

© 2013 প্রযুক্তির দুনিয়া. All rights resevered. Designed by Templateism

Back To Top